111

বৃদ্ধ বয়সে মা-বাবা কে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠানো উচিত কি না সেই নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় রোজ লেকচার শুনি।কয়েনের উলটো পিঠ ও আছে।ছোটো থেকে পাশের বাড়ির ভালো ছেলে ভুলু দা বা মাধ্যমিকে প্রথম স্থানাধিকারী উজ্জ্বল রত্ন টিকে উল্লেখ করে যে শিশু নিপীড়ন চলে সেটা শুরু। পড়ায় ভালো হতে হবে, গানে শ্রেয়া, অরিজিত তো নাচে প্রভুদেবা, আর ছবি আঁকায় যামিনী বা ফিদা হুসেন। সোজা কথায়, “সব কিছুতে সেরা, আমার কহিনূর হীরা”। তাই বলে, সব কিছুতে সেরা হতে গিয়ে, বাচ্চাটার শৈশব ধ্বংস করে দেওয়া হয়।

এই বার যখন এই বাচ্চা টি বড় হয়, তখন চাকরি বা ব্যবসা যাই হোক, সেখানেও ইঁদূর দৌড়, সংসারের হাজার ঝামেলা, বাচ্চার পড়াশোনা সব নিয়ে নাস্তানাবুদ মানুষ কি করবে?

মা-বাবা নিজেদের শরীর সুখের ফল কে সম্পত্তি না ভেবে যদি সম্পদ ভাবেন এবং বিপুল আশার বোঝা না চাপান তাহলে কিন্তু এখনো ছবিটা বদলাতে পারে।

আমাদের প্রাচীন ভারতে চতুরাশ্রম ছিলো। সেখানে ৫০ বছরের পরে বাণপ্রস্থের উল্লেখ আছে।সারাজীবন সংসারের ঘানি না টেনে কি হয় সমবয়সীদের সাথে বৃদ্ধাশ্রমে সময় কাটালে? আমি কেন আমার সন্তানের দায় হবো? সে তো নিজের ইচ্ছেয় আমার কাছে আসেনি?কাজী নজরুল ইস্লামের সাম্যবাদ এও কিন্তু মা-বাবা আর সন্তানের সম্পর্কে লেখা আছে।

ঈশ্বরী পাটনী মা অন্নপুর্নার কাছে, “আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে” এই বর চেয়েছিলেন।বর্তমানে আমরাই নিজেদের বাচ্চাকে ক্রেশে বা বাড়িতে আয়ার কাছে রেকে টাকার পিছনে ছুটছি; সেই বাচ্চার কাছে অপরিসীম প্রত্যাশা রাখি।আমার সন্তান তো এক্সিবিট করার বস্তু নয়।আসলে ভারতে মা-বাবা কে ভগবান বানানোর একটা অভ্যাস আছে। মা হতে গিয়ে কত গুলো হাড় ভাঙার যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়েছে, কি ভাবে মা সন্তান কে ভালোবাসায় ভড়িয়েছেন ইত্যাদি।এই মা ই কিন্তু একজন নারী। জিনি অনেক সময় কন্যা ভ্রূণ হত্যা করেন, বিয়ের আগে সেক্স করে অন্তস্বত্বা হলে বাচ্চা টার্মিনেট করেন, অনেক সময় অভাবে পরলে বাচ্চা কে বেচে দেন, সম্মান রক্ষার্থে সন্তান কে খুন ও করেন।মা-বাবা দেবতা নন, মানুষ।মানুষ হিসেবেই যদি তাকে ভালোবেসে সন্তান নিজের কাছে রাখে তো ভালো নইলে নিজের আত্মমর্জাদা থাকতে থাকতে নিজের জগত তৈরী করাই বুদ্ধিমানের কাজ। আমি নিজে ছেলের মা। কিন্তু আমি সন্তানের ভালোর জন্যই নিজের আলাদা জগত বানাচ্ছি।অনেকেই আমায় গালি দেবেন আমি জানি কিন্তু এই জ্বলন্ত সত্যি স্বীকার করে নেওয়াই মঙ্গল।

Advertisements