mm

সিরাজের সাথে এই ফেসবুকেই আলাপ, পরিচয়; চিনি এটা বলা উচিত হবে কি? বছরের পর বছর একই ছাদের নিচে থেকেই কাউকে চেনা যায়না যেখানে সেখানে এই ভার্চুয়াল দুনিয়ার পরিচয়! তবু , এই তবু অনেক খানি জায়গা নিয়ে আছে। সিরাজ, শ্রীলংকার ছেলে, চাকরী করতো মক্কায়, কট্টর মুসলিম। পাঁচ ওয়াক্ত নমাজ পরা পাবলিক।ও বলতো সি ই ও, কিন্তু অনেক কারনেই ওর পেশাগত পরিচয় টা ফেক লাগতো।একটা বিশাল কোম্পানি যার খবর আমি ভারতের খবরের কাগজে পাই, সেই কোম্পানির সি ই ও দিনে পাঁচ থেকে সাত টা ফেসবুক পোষ্ট কি করে দিতে পারে, যখন কি না কোম্পানিটা ওর বাবার নয়? এনি ওয়ে, ফেসবুকে এই ঢপের খেলা এতো স্বতঃস্পফুর্ত যে আমি অজ্ঞানতার ভান করেই থাকতাম।এতে দুত লাভ, এক মিথ্যে বলতে বলতে এমন কিছু কাজ করবেই যে নিজেই নিজের কথার জালে ফাঁসবে, আর আমায় বোকা ভেবে অসাবধান হয়ে যাবে।

আমার এক আমেরিকা প্রবাসী বাঙালী বান্ধবীর বন্ধু ছিলো, সেই সুত্রেই আমায় ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছিলো। বন্ধু হয়েই চ্যাটে এলো; বিরক্তি লাগলেও জবাব দিলাম শান্ত ভাবেই। প্রথমেই বললো, আমি কারো সাথে ফেসবুকে চ্যাট করিনা, কিন্তু তোমার চোখ আমায় বাধ্য করলো কথা বলতে। মনে বাছা বাছা খিস্তি এলেও দেঁতো থ্যানক্স দিলাম।

nn

চলছিলো, ভালোই যেমন অন্যদের সাথে বন্ধুত্ব, শেয়ারিং চলে তেমনি। তারপরে হোয়াটয আপ এও জুরে নিলাম। ও খুব ভালো কথা বলতে জানতো যেটা না বললে মিথ্যা বলা হবে।শান্তি, ভালোবাসা, আশা ছাড়া কোন পোষ্ট পাওয়া যেত না। ব্যাপার তা কি হয়, আজকের যুগে কোন মানুষের বেশি ভালো ভাল কথা হজম করার মত পাচন শক্তি আমাদের আর আছে কি? নেই, থাকার কথাও না। একটা বাচ্চা জন্মেই টেররিজম শুনছে সেখানে মক্কায় বসবাস কারী নমাজি শান্তি আর প্রেমের কথা বললে ব্যাপারটা মানতে একটু অসুবিধা হয় বইকি। আলাপের মাস খানেক পরেই অ বললো আমায় নাকি খুব ভালোবেসে ফেলেছে।আমি অন্যদের যা উত্তর দেই এবার তা করলাম না, স্বীকার করলাম আমিও, খুব খুবই ভালোবাসি।কিন্তু তোমার অন্য বান্ধবীরাও তো তোমার প্রেমে পাগল, পোষ্টে কমেন্ট পড়ে এট লিষ্ট আমার তাই মনে হয়েছে, ও বললো, ওরা বয়স্ক, আমার দিদিমার বয়সী। এবার চমকানোর পালা আমার। তুমি কি করে জানলে কার কত বয়স? ওদের কার নাতি- নাতনী আছে তুমি জানলে কি করে?তুমিতো কারো সাথেই পার্সোনালি কথা বলই না?

nl

না মানে মাঝে মাঝে বলতে হয়।ও ও ও! তো তোমার আমার প্রেমের পরিনতি কি? ওর সহজ উত্তর বিয়ে করবও আমরা।

আরে, আমিতো বিবাহিতা, একটা ছেলেও আছে, বরের সাথেও ঝামেলা নেই তবু কি করে বিয়ে করবে? ও বললো, সময়ে সব হবে।বোঝো কান্ড!

এর মধ্যে আমি আমার প্রোফাইল পিকচার চেঞ্জ করলাম,বহুদিন ধরেই চোখের সমস্যায় ভুগছি, মাঝে মাঝেই চোখে ইনফেকশন হয়, চোখ লাল ঈ থাকে সব সময়।সেই ছবি দেখে ও ইনবক্সে এসে জিজ্ঞাসা করলো তুমি কি মদ খাও? শালা  রাগে গা জ্বলে জাচ্ছিলো, বিরক্তি নিয়েই জিজ্ঞাসা করলাম, হঠাত এই প্রশ্ন কেন?

–বললো চোখ লাল দেখে মনে হল।

আমিও বললাম, ‘ঠিক ধরেছো, আমার দিনে ভডকা আর রাতে স্কচ ছাড়া চলেনা।‘

ও পুরো বিশ্বাসের সাথে বললো,’ মদ খাওয়া আমি মানতে পারবো না, কারন ইসলাম এ মদ নিষিদ্ধ।‘

আমার তাতে কি? সোজা জিজ্ঞাসা করলাম।আমি হিন্দু, মদের টাকা নিজে রোজগার করি। তোমার কি?

ওর তখন আমার বোকামির উপরে অগাধ আস্থা, বলে, “ডার্লিং, আমরা ফিউচারে বিয়ে করবো যে।“

এই ভাবে আর কিছু মাস পার হল, আমি ওকে বুঝতে না দিয়ে নিজের মত কিছুটা তদন্ত চালালাম। তাতে বুঝলাম, যে ও বড়জোর ওই কোম্পানিতে ফিটারের কাজ করে। বিবাহিত, বেশ কয়েকটি ছেলে মেয়ের বাবা।আমি আমার একটা শখের ব্যাপারে খুব একটা বলিনা সেটা হল, শার্লক হোমস পড়েই হোক বা ফেলুদা ব্যোমকেশ আমি ছোত থেকেই মানুষ কে অবজার্ভ করতে ভালোবাসি। কিছু ফতো, কিছু পোষ্ট, ওকে যারা কমেন্ট করে তাদের প্রোফাইল চেক করে এই তথ্য গুলো জোগাড় করেছিলাম, আর ইন্টার নেট এ সার্চ করে কিছুটা বুঝেছিলাম যে ওর দুটো মুখ।

এই সেদিন যখন বাংলাদেশ এ গুলশনে জঙ্গি হামলা হল, আমি কষ্টে, ভয়ে মূষরে পরেছি, ও দেখি নির্বিকার। আমি বললাম এই হামলার এগেইনশটে তোমার কিছু বলার নেই? তাতে ও দায়সারা করে একটা পোষ্ট করল।যা বোঝার তা তো বুঝেই গেছি, তবু আমি ওর মুখ থেকেই শুনতে চাইছিলাম সত্যি টা। সুজোগ ও

এসেই গেলো।পাকিস্তানের এক জঙ্গি নেতা কে গালি দিলাম আমার পোষ্টেই। আর কোথায় থাকে শান্তি, প্রেম, আশার কথা! ও তেলেবেগুনে জ্বলে উঠলো। আমি বললাম, সেকি? তুমি একজন টেররিষ্ট কে সমর্থন করো? ও রেগে লাল হয়ে বললো, তুমি কেন ওনাকে সন্ত্রাসী বলছো? কি জানো ওনার ব্যাপারে? তুমি না নিজেকে হিন্দু- মুসলিম কিছুই বলতে না?

আমি বললাম, সে তো, আজ ও বলিনা। তারমানে তো এই নয় যে কেউ কোরানের আয়াত না বলতে পারলে তাকে খুন করায় সাপোর্ট করব?

ও বলেই চলল, ওর ধর্মে শান্তির কথা, সেই সন্ত্রাসী র গুনাবলি। আমি সত্যি বলছি থাকতে না পেরে খুলে বললাম ওর ব্যাপারে আমি যা যা জানি। আমার তখন আর কোন সন্দেহ নেই ওর ব্যাপারে। এর পর আর কি? ব্লকড হয়ে গিয়ে বুঝলাম জীবনে প্রথম বার সত্যি কোন তদন্তের রেজাল্ট পেলাম।

 

Advertisements