q

খবরগুলো রোজ ই চোখে পরে, তাও কোন কোন ঘটনা আমায় সারাদিন দুঃখে অবশ করে দেয়। রোজ মেয়েরা পনের বলি, ধর্ষন, শ্লীলতাহানির শিকার হচ্ছে। খারাপ লাগে এই ভেবে যে এখনো ভারতে এমন কিছু সেলিব্রটি মহিলা ধর্ষনের জন্য মেয়েদের দায়ী করে।

দিন কয়েক আগে এক স্বনামধন্যা অভিনেত্রীর  বাংলা কাগজে দেওয়া একটা সাক্ষাতকার পড়ছিলাম। উনি নিজেকে খুব সংস্কারি মনে করেন তাই অনায়াসে বলে দিলেন যে ওনার মনে হয় ধর্ষনের জন্য মেয়েরাই দায়ী, কারন? কারন হিসেবে বললেন মেয়দের মিনিস্কার্ট, অফ শোল্ডার এই রকম পোষাক গুলো ছেলেদের প্রোভোক করে। কষ্টে, রাগে মনে হচ্ছিলো সোজা কলকাতায় গিয়ে ওনার লম্বা চুল গুলো মুঠি করে ধরে জানতে চাই এতো যে ছোট্ট চার, পাঁচ বছরের শিশু কন্যা বা সত্তর বছরের বৃদ্ধা ধর্ষিত হচ্ছে তারা কিভাবে ধর্ষক কে প্রোলোভিত করছে? মায়া দয়া হীন তো সমাজ বরাবর ই ছিলো, কিন্তু মোক্ষদা পিসীর রাও তো বলেনি কোনদিন যে মেয়েদের দোষেই মেয়েরা ধর্ষিত হচ্ছে?

1

মেয়েরা পনের বলি হচ্ছেসেও এই ধরনের মহিলাদের জন্যই যারা পুরুষতন্ত্র তাকে বয়ে নিয়ে চলেছেন রিলে রেসের মতন।ঘরে মেয়ে জন্মালে আজকের দিনেও প্রথমে তার স্বাস্থ্য বা এডুকেশনের বদলে বিয়ে নিয়েই চিন্তা শুরু হয়ে জায়।আজ ও কেন নারী কে প্রথমে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে, মননশীল না বানিয়ে বিয়ে দিতে হয়? অবশ্য রোজগেরে মেয়েরাই বা বাঁচছে কোথায়? এই তো কিছু মাস আগেই পাটনায় এক ব্যাঙ্ক অফিসার কে তাঁর স্বামী আর শ্বশুর বাড়ির লোকেরা মেরে দিলো, কেন? না ছেলেটি হীনমন্যতায় ভুগছিলো। এখানে অবশ্য আমি মেয়ের বাড়ির দোষ ই দেখি। এক দিনেই তো কেউ মেরে ফেলেনা। যখন আপনার বিবাহিত মেয়ে কোন রকম শ্বশুর বাড়িতে অসুরক্ষিত বোধ করছে তখন ই বাপের বাড়ির লোকের উচিত মেয়েকে মানিয়ে নিতে না বলে তাকে লীগ্যাল সাপোর্ট না করতে পারলেও মানসিক ভাবে তাকে সাপোর্ট করুন। মেয়ে বিয়ে দিয়েই দায় শেষ না করে বিয়ের পরেও যে তার নিশ্চিন্তের কোন সহায় আছে সেই মানসিকতা তৈরী করুন।আর এই সব বজ্জাত কিছু সেলিব্রিটির মত ভাববেন না যে কোন মেয়ের স্কার্টের ঝুল ছোট হলেই তাকে ধর্ষন করার অধিকার পেয়ে যায় কেউ। প্রথমে নিজেদের মানসিকতায় পরিবর্তন আনুন তারপরে ছেলে কে শেখান মেয়ে বলে কাউকে যেন অসম্মান না করে। বলতে লজ্জা করলেও তো এটাই সত্যি যে আজ ও এই ধরনের মানসিকতার মেয়েরা আছে, তাই আগামি দিনেও মেয়েরা বিপদমুক্ত নয়।

2

Advertisements