পনেরো, বিশ বছর আগেও মধ্যবিত্ত বলে একটা স্ট্যাটাস ছিলো; যেটা এখন লোপ পেয়েছে। এখন শুধু নিম্নবিত্ত আর উচ্চবিত্ত।আমার বাবা মধ্যবিত্ত ছিলেন এবং মধ্যবিত্ত মানসিকতাও ছিলো।

আমরা যে পাড়ায় থাকতাম সেখানে সব রেল কর্মচারীরাই থাকতো। পাড়া প্রতিবাশি মিলে মিশে একটু আধটু পিএনপিসি করে মোটামুটি শান্তির জীবন ছিলো।তো আমাদের বাড়ির গলিতে ঢুকলেই একটা গোলাপী রঙের পাঁচিল ঘেরা বাড়ি ছিলো যেখানে একজন ভট্টাচার্জ  রেলের ড্রাইভার তার বৌ, ছেলে-মেয়ে নিয়ে বাস করতো। এই লোকটি ছিলো দেশি মদ খাওয়া মাতাল।ওনার শিফটিং ডিউটি ছিলো তবু রোজ বাড়ি ফিরতো টলতে টলতে। আর এসেই গালাগালি, রেডিও চালিয়ে বৌ পেটানো মানে সোজা কথায় আমাদের শান্তির পাড়ার মুর্তিমান অশান্তি।ওনার বৌ সুন্দরী ছিলেন কিন্তু মানুষ সুবিধের ছিলেন না।

mm

মদ কথাটা আমাদের কাছে প্রায় গালির সমান, মুখে উচ্চারণ করলেই বকুনি জুটবে এমন অবস্থা। তাও একদিন ভাই মা কে জিজ্ঞাসা করেই ফেললো, ‘মা! মদ কি গো?’ ও তখন এই ছয় কি সাত বছরের। মা বললো, ‘চিড়িয়াখানায় যে হাতি, বাঘ, ভাল্লুক থাকে তাদের হিসুকে বলে মদ।‘ভাই আবার কোয়েশ্চেন ফায়ার করলো, ‘তবে – জেঠু খায় কেন?’ মা আর কি জবাব দেবে তাই বলে দিলো, ‘ওটা খারাপ লোকেরা খায়।‘ ব্যাস, আমাদের দুই ভাই বোনের মনে কংক্রিট ধারনা হল মদ মানে জন্তুদের হিসু আর সেটা কোন ভালোমানুষ খায়না।

এক বার দুর্গা পুজার দিন সাতেক আগে ওই জেঠু মদ খেয়ে লাইনের ধার দিয়ে আসছিলো। ট্রেন হর্ন দেওয়াতেও সরেনি, উলটে হাত দেখিয়ে চালাতে বলেছে, এবং নক ডাউন হয়ে শেষ। জিনি ড্রাইভার ছিলেন তিনি নৈহাটি তে রিপোর্ট করেছেন, এবং ভিকটিমের নাম ও বলেছেন, কারন উনি ভট্টাচার্জের কোলিগ ছিলেন।আমরা তো কিছুই জানিনা। পরের দিন সকালে শুনে সারা পারার লোক ভেঙে পরলো। ওনার মেয়ে আমার চেয়ে বছর দশেকের বড় ছিলো। ছেলেটা আমার বয়সী। কিন্তু ওনার মেয়ে তখনো মাধ্যমিক দেয়নি; তখন প্রায় ঊনিশ বছরের।প্রতিবেশির অপঘাতে মৃত্যুতে সেদিন পারায় কারো বাড়িতেই রান্না হয়নি। আজ ও ভাবলে অবাক লাগে যে ঐ টুকু বয়সে আর রোজ গালি গালাজ শুনতে হবেনা ভেবে আমি খুব স্বস্তি পেয়েছিলাম।

m

Advertisements