নারীমুক্তি নিয়ে অনেকেই অনেক শব্দ খরচ করেছে এখনো করে।তবু আজ ও ধারাবাহিক ভাবে কন্যা ভ্রূন হত্যা, নারী, শিশু কন্যা পাচার, পনের বলি, ধর্ষন, শ্লীলতাহানী সব চলছে, শুধু চলছে না উত্তরোত্তর বেড়েই চলেছে।  আজকে বরঞ্চ কিছু কারন খুঁজি চলুন।

আমি নিজের অভিজ্ঞতাতেই জানি যে সব মেয়েরা প্রথম লাঞ্ছিত হয় বাড়িতে। হ্যাঁ, বাড়ি থেকেই না বরং ভ্রূন থেকেই শুরু করি। আল্ট্রা সাউন্ডের শুরু খুব বেশি দিনের না, তাহলে কি ধরে নেবো যে এই যন্ত্র আসার আগে কন্যা সন্তান শেফ ছিলো? না, ছিলোনা।আগেকার দিনে এমন অনেক ধাই মা ছিল যারা কোন মেয়ে সন্তান্সম্ভবা কি না তা নাড়ী ধরে বলে দিতে পারতেন। আর ভ্রূনের বয়স একটু বেশি মানে আট কিংবা ন’সপ্তাহের হলে বলে দিতে পারতেন গর্ভস্থ সন্তান টি মেয়ে না ছেলে?তখন নানান গ্রামীন উপায়ে গর্ভপাত করিয়ে দিতো শাশুড়ি বা ওই বাড়ির প্রধান কোন নারী। আর যদি তা না হত তো প্রসবের পরে যদি দ্যাখা যেত কন্যা সন্তান তো নুন ঠুসে দেওয়া হত নবজাতিকার মুখে। কেউ আবার ধান দিয়ে দিতো, জন্মানোর সাথে সাথেই কচি মুখ মধুর বদলে ধান গলায় আটকিয়ে মরতো।সব চেয়ে বড় মজাটা কি বলতো, এই পুরো খুন রক্রিয়াটা চলতো কোন নারীর হাতে।

2

আসলে পিতৃতন্ত্র টিকে আছেই নারীর হাত ধরে।আজ ও আমাদের দেশে সব চেয়ে বেশি বধূ হত্যা হয় ই শাশুড়ি, ননদ, জা এই রকম কোন নারীর হাতেই। মেয়ে পাচার হয়ে যায় গ্রাম দেশে বিয়ের নাম দিয়ে সেখানেও আড়কাঠির কাজ টি করে কোন মহিলা। এই যে সদ্য শিশু পাচার চক্র নিয়ে এতো খবর হচ্ছে সেখানেও বেশীরভাগ মহিলা।

ছেলেদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করা মহিলাটি ই হয়তো বারির কাজের মেয়েটিকে শারীরিক অত্যাচার বেশি করেন।শিশু শ্রমিক হিসাবে সব চেয়ে বেশি ডোমেষ্টিক হেল্পারের কাজ করে নাবালিকা রা। দারিদ্রের জ্বালায় মা কাজে দিয়ে দেন এই আশায় যে খেতে তো পাবে; কিন্তু খাওয়া তো দূর বেশির ভাগ সময়েই এরা শারীরিক নির্জাতনের শিকার হয়। সারাদিন কাজ, খেতে না দেওয়া, মার ধোর লেগেই থাকে।

3

আসলে যে দেশে স্বাধীনতার সত্তর বছর পরেও শৌচাগার বানানোর জন্য টি ভিতে বিজ্ঞাপন দিতে হয়, স্যানিটারী ন্যাপকিন এর প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে হয় সেই দেশে নারি নির্জাতন থেকে রক্ষা পাওয়ার আইন আসলে আইনের অপপ্রয়োগ ছাড়া কিছু না।

আমি যখন ছেলের মা, তখন তো আমার ই উচিত ছেলেকে শেখানো, যে মেয়েদের সম্মান করতে শেখানো? কোন মেয়ে শর্ট ড্রেস পরলেই সে ভোগ্যপন্য নয়! আমরা মেয়েকে শাখাই জন্মের পর থেকেই, সতীত্ব খুব দামী জিনিষ। মেয়ের ওড়া বন্ধ করতে নানা ভাবে তাকে সমাজের মাপে কেটে ছেঁটে সাইজ করি, যাতে এই পিতৃতান্ত্রিক সমাজের খাপে এঁটে যায়, আর সেইখান থেকে শুরু হয় পিতৃতন্ত্রের ধ্বজা ওড়ানোর পালা।

1

যেদিন মা মেয়েকে না শিখিয়ে ছেলেকে শেখাবে, তাকে সাইজ করবে সেদিন হতে পারে অন্যরকম সমাজ দেখতে পাই। কে জানে সেদিন কত দূরে? আপনি কি মনে করেন, এমন দিন আসবে?

Advertisements