গান্ধীনগরে আমার সবচেয়ে প্রিয় যে ্প্রতিবেশীরা ছিলো মুমতাজ ভাবী আর স্বাতী ভাবী তারমধ্যে সেরা। আমাদের পুরো সোসাইটি তে কয়েকশো ফ্ল্যাট ছিলো।ঈ ব্লকের তিনতলায় আমাদের ফ্ল্যাট, দুটো পাশাপাশি দুটো মুখোমুখি, মাঝখানে একটু কমন স্পেস। নতুন বিয়ে হওয়া, আনাড়ি আমায় ওরা যে স্নেহ, পরামর্শ দিতেন তা আমার আজ ও কাজে লাগে। আমরা চারজন ভারতের মুখ ছিলাম। আমি বাঙালী ব্রাম্ভন, মুমতাজ গুজরাটি মুসলিম, স্বাতী ভাবী মারাঠী ব্রাম্ভন, অনুরাধা গুজরাটি স্বর্নকার।রোজ রান্না শেষ করে চা আর আড্ডা শুরু হত। স্বাতী ভাবী ও আমার মত খুব চা খেতো। অনুরাধা আর মুমতাজ ভাবী অত চা খেতো না।

1

আমার বর তখন এতো বড় চাকুরে ছিলোনা, আমি ছাড়া আমার সব প্রতিবেশী ই বড়লোক ছিলো কিন্তু টাকা আমাদের বন্ধুত্বের মাঝে আসতে পারতো না।রান্না, অল্প টাকায় সংসার চালাতে হয় কি ভাবে সব শেখাতো।আমার খুড়তুতো ভাশুর আর জা ও গান্ধীনগরেই থাকতো।

আমার জা এর মত শো- অফ করা মহিলা আমি খুব একটা দেখিনি।ভাশুর এঞ্জিনিয়র, তা ছাড়া আমার খুড়শ্বশুর ও খুব বড়লোক ছিলেন তাই আমার জা সারাক্ষন নিজেকে জাহির করতে থাকতো।বিয়ের আগে একবার ই আমি আমার হবু বরের সাথে কথা বলতে পেরেছিলাম, ও তখন ই আমায় জানিয়েছিলো ওর বৌদির স্বভাবের কথা।বলেছিলো ওনার দ্যাখা দেখি আমিও যদি শাড়ি, গয়নার আবদার করি তবে ও তা দিতে পারবেনা।

3

যেদিন প্রথম আমার বর আমায় ওর দাদার বারি নিয়ে গেলো সেদিন সন্ধ্যা থেকে রাত্রি আটটার মধ্যে আমি জেনে গেলাম আমার জা এম এস সি পাশ, গান জানে, নাচ ও জানে, ছবি আঁকে এবং নানারকম খাবার বানাতে পারে। ওদের তখন একটাই মেয়ে আড়াই বছরের। খুব মিষ্টি স্বভাবের মেয়ে।রাতের খাবার খেয়েই বুঝলাম জায়ের রান্না কত ভালো! আমার মত আনাড়ি ও ওনার থেকে ভালো চিকেন বানাতে পারতো। সময়ের সাথে সাথে ওনার গুন যে শুধু ঢক্কানিনাদ তাও বুঝলাম। কিন্তু আমার চুপ থাকা স্বভাব।

সেটা দু হাজার এক এর ছাব্বিশে জানুয়ারির সকাল।আমি পাঁচ মাসের প্রেগন্যান্ট। ওর অফিসে অনুষ্ঠান আছে বলে আমার বর সকালেই অফিসে চলে গেছে। আমি বেডরুমের ব্যালকনি থেকে ওকে বাই করতে গিয়ে খেয়াল করলাম পায়রা গুলো কেমন ভয়ে গুটিয়ে আছে। একটু অবাক হলেও পাত্তা দিলাম না। আমি ড্রয়িং রুমের সিঙ্গল খাটে শুয়ে টি ভি তে আসারাম বাপুর লেকচার শুনছিলাম। হঠাত খাট তা দুলে উঠলো, আমি শুয়ে শুয়ে প্রবচন শুনেই জাচ্ছি, এর পর ভয়ানক দুলতে থাকলো, খাট, টিভি, ফ্যান কি ব্যাপার জানতে আমি শল গায়ে জড়িয়ে, চটি পরে ধীরে সুস্থে দরজা খুলেই দেখি পাঠক জী(স্বাতী ভাবীর স্বামী, ) লাল ভাই(মুমতাজ ভাবীর স্বামী) কিশোর দা (অনুরাধার স্বামী সব্বাই পালাচ্ছে নিচের দিকে আমায় দেখে বললো, ‘ রুমা আচকো আয়ো ভাগো।“ সেই আমার জীবনের প্রথম ভূমিকম্প দ্যাখা। কিন্তু মুমতাজ ভাবী, অনুরাধা কোথায়/ স্বাতী ভাবী তখন মুম্বই গেছিলো। অনুরাধা আর আমি দু জনেই প্রেগন্যান্ট। মুমতাজ ভাবী, ওদের চারবছরের ছেলে, অনুরাধা সব্বাইকে খুঁজে নিয়ে একসাথেই নীচে নেমেছিলাম।আমি একা পালাইনি ভেবে আজ ও আমার ভালো লাগে। জীবনে আজ ও আমি চেষ্টা করি ভালো প্রতিবেশী হওয়ার।

4

Advertisements