img_4645

আমি এখন যে বাড়িতে থাকি তার ছাদ নেই; না মানে সাততলা ফ্ল্যাটছাদ আছে কিন্তু সেটা ব্যাবহার করার উপায় নেই।বাথরুম আর ছাদ নিজস্ব নয়া হলে তার ব্যাবহারে সুখ, স্বাধীনতা কিছুই নেই। এই যে শীতের দুপুর কোথায় ছাদে গিয়ে রোদে পিঠ দিয়ে কবিতার বই পড়বো বা দু কলি গান গাইবো তার উপায় নেই। এই বড়লোকের বস্তিতে কিছুই নিজের না। সিকিওরিটির কাছে চাবী চাইতে হবে, কারন দেখাতে হবে এতো ফ্যাঁকড়া জাষ্ট পোষায় না। আমাদের বাড়ির ছাদের কথা মনে পরে। বৃষ্টিতে ভেজার জন্য, গরমের রাতে হাওয়া খাওয়া থেকে নিয়ে শীতের রোদে পিঠ দিয়ে বই পড়া বা আড্ডা সব কিছুতেই ভেনু ওই ছাদ। ভারতীয় মহিলাদের জন্য ছাদ খুব গুরুত্বপুর্ণ জায়গা। পাশ্চাত্যের মহিলাদের মত শীত কালে বিকিনি পরে সমুদ্রে নিজেকে সেঁকে নেওয়ার মত বিলাসিতা সে করেনা। রোদ তাপাবো তার সাথে গম, লংকা শুকাতে দেওয়া, আচার রোদে দেওয়া, বড়ি দে!ওয়ার মত কাজ গুলো করতে করতে রোদে থাকা।আমার মত অলস মহিলার জন্য ও ছাদ দরকার, বই পরবো, মা কমলা ছুলে মুখে দেবে, ঠাকুমা একটু আচার দেবে মুখের কাছে ধরে তবে না ছাদ বিলাস! এখানে ছাদ ও নেই, মা ও নেই আর ঠাকুমা তো কবেই তারা হয়ে গেছে। আমাদের এই সোসাইটি টা খুব বড়লোকেরা থাকে। কোটি টাকা দামের এই ফ্ল্যাট গুলোর মালিক ডাক্তার, হাইকোর্টের জজ, ব্যাবসায়ী দের ইনভেষ্টমেন্টের জায়গা।আমি এখানে ভাড়া থাকি। কিন্তু এদের আমার গরীব মনে হয়। কত অমূল্য জিনিষের এরা স্বাদ জানে না, যদি জানতো তবে সব উইঙ্গের ছাদের দরজা খোলা রাখতো। গরমের বিকেল, শীতের দুপুর, জ্যোতস্না রাত আমি ছাদে কাটা তাম। তারা ভরা আকাশের দিকে তাকিয়ে কাটিয়ে দেওয়া যেতো অমাবস্যার রাতের কিছু সময়। বৃষ্টি বিলাস করতাম ছাদে।ধুত্তোরি! সিটি আমার ভালো লাগেনা। এখন তো গ্রাম ও খুঁজে পাইনা। বুড়ো বয়সে একটা বাড়ি বানাবো যেখানে অনেক গাছ থাকবে আর থাকবে আমার নিজস্ব ছাদ! খুব বেশি কি চাওয়া হয়ে গেলো? জানিনা; কিছু জিনিষ সময়ের হাতে ছেড়ে দেওয়াই ভালো।

Advertisements